কবিঃ পীযূষকান্তি বিশ্বাস


নিবাসঃ নিউ দিল্লি, ভারত ।


কবি পরিচিতিঃ


 পীযূষকান্তি বিশ্বাস । জন্ম ১৯৭৫ হাট বহিরগাছি, জেলা নদীয়া, পশ্চিমবঙ্গ , ভারত । পিতা জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ভাবগান গায়ক ।  মাতা, করুণাময়ী বিশ্বাস । কবি পীযূষকান্তি বিশ্বাস পেশায় একজন সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার, দিল্লিবাসী বাঙালী , মাল্টিন্যাশনালে কাজ করেন।  বাংলা ভাষায় কবিতা লেখেন ।  ১৯৯৮ সালে তিনি দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন । এখান থেকে প্রকাশিত 'কথাঞ্জলী' পত্রিকার মাধ্যমে তার পরবর্তী জীবনের কবিতা যাপন শুরু হয় । ২০১৪ এ দিল্লি হাটার্সের সম্পাদক দিলীপ ফৌজদারের সহায়তায় তার প্রথম কবিতার বই  'ঘুমঘর' দিল্লির বইমেলায় প্রকাশিত হয় । ২০১৬ তে তার  দ্বিতীয় কবিতা গ্রন্থটি 'আকাশ চুম্বন' নামে কলকাতার অভিযান পাবলিশার্স  প্রকাশ করেন । কবিতা লেখা ছাড়া, পীযূষকান্তি বিশ্বাস বাংলা সাহিত্য পরিসরে, বিভিন্ন ব্লগে ও সোস্যাল মিডিয়ায় কবিতা ও সাহিত্য বিষয়ক প্রবন্ধ লিখে থাকেন ।  এ ছাড়া, সম্পাদক হিসাবে তিনি সম্পাদনা করেছেন 'শূন্যকাল' ওয়েব ম্যাগাজিন । বর্তমানে ‘দেহলিজ’ পত্রিকার সম্পাদনা ও পরিচালনার দায়িত্বে আছে কবি পীযূষকান্তি বিশ্বাস ।





ম্যান-ম্যাসিন-ম্যাটার

--পীযূষকান্তি বিশ্বাস



সবাই বাড়ি  চলে গেছে

জেগে আছে এই ডি এন ডি ব্রিজ

রাতের উপরে  বিছানা পেতে 

যমুনা নিস্তব্ধ শুয়ে আছে...


জীবন রেখা বলে যা দেখছি

দিন, দিন

প্রতিদিন যত দূর দূর এই ছুট

ছুট ছুট

নদীর পাড় ঘেঁসে এই এইট লেন 

সাই সাই

রাস্তা বলছে এখানে কোন ঠাঁই নেই

এখানে এম বলে কিছু নেই


ওহে  ট্যাক্সি !  থামো, 

এই যে  এই দিকে লোরাইড বাস

ওদিকে ওলা উবের

এবড়ো থেবড়ো জিগজ্যাগ 

চলে  গেলো পায়দল পথচারী

যমুনার ঘরে ফেরা নেই

যমুনার কোন বাড়ি নেই

এম মানে 

জীবনের কোন এইম নেই । 



এম বনাম ডব্লিউ

এই খানে কোন এম নেই

কোন ঘুম আর জেগে থাকার সংগ্রাম

এই খানে হেঁটে যাওয়া যায় তবে

কোন ট্র্যাক নেই

কেনা বেচা ফুটপাত, হকার

দ্রব্য সামগ্রীর কোন এম থাকে না বলে

সামগ্রিকতা থেকে অনেক অনেক

দূর

দূর দূর নীলিমায়

এই রিয়েল স্টেট

আটকে যতই উলটে দাও সে আট

রাস্তা যতই উলটে দাও সে রাস্তাই 

দুই কে দুই দিয়ে গুন

দুই কে দুই দিয়ে যোগ

আয়নাকে আয়নায় 


এই দিকে অনেক উচ্চে তোলা নয়ডা 

কবিতার বিষয় আশয় এম থেকে অনেক দূর  

ঘর বাড়ি দামী নয় আমার

আমার নিজস্ব  কোন এম নেই । 


যা কিছু  দূরে  চলে যায় 

অথচ দূরান্ত নয়

এক গোতা বাঁক খেয়ে ফিরে আসে

সীমানা বিস্তৃত হলে

বিছানা চাদরে উলটে দিয়ে 

এই ইন্দ্রপ্রস্থ বরাবর 

যদি আর একখানি সমান্তরাল টানি ; 


এই কাল, কবিতার  একটাই সমতল

এইতো দিল্লি , 

একটাই রিং রোড

আমাকে সম্রাট জাহাঙ্গীর বলেছে

আমাকে আপেক্ষিকবাদ বলেছে

আমি এই কালিন্দীকুঞ্জকে কতো ভালোবাসি 

বটের পাতার শুয়ে থাকবো আমি 

আমার নগ্ন গায়ে একপায়ে দাঁড়ানো পাখি 

তার কোন এম আছে কি ?  


দিল্লির ঢেউ নিয়ে যমুনার বিপন্নতা আমি বুঝি  

এই অবস্থান আর জলসহ অস্তিত্ব নিয়ে  

কোথাও কোন নশ্বরতা নেই


হুমায়ূন টম্ব সাক্ষী 

ঢেউগুলি ভেঙ্গে যায়,

পাখিগুলি উড়ে যায়

উড়ে যাওয়া পাখিদের কোন এম নেই । 


যদি কোন ফিরে আসা থাকে

এক্সপ্রেস হাইওয়ে থেকে মহামায়া ফ্লাইওভার

আরাবল্লী রিজ  থেকে ফুলফলময় 

মুঘলগার্ডেন


সারে কে সারে

আচ্ছে সে আচ্ছে 

যাঁহা সে যাঁহা 


লাল মাটি মেহরোলীর কাছে এসে

খুশবুদার মাটির আরো করীব...

যে কোন পদধ্বনি

হেঁটে নিতে চায় কয়েক পাতা ইতিহাস

বুঝে নিতে চায় একটা কুতুব মিনার

হা করে দাঁড়িয়ে থাকা ইন্ডিয়া গেট


যে যায় সে যায়, 

দূর থেকে দূরে

একে অপরের থেকে দূরে

মা, পা, ধানি, সা 

যে কোন ধারনা নিয়ে এ যাঁহার সমস্তই এক   

গোল গোল বৃত্ত

এর  মধ্যে কোন নিশ্চিতভাবে এম নেই । 


একদিন 

গুমরে গুমরে দলে দলে

বৈশাখের নতুন পল্লবে দিল্লি ফিরে আসে

হারমোনিয়ামএর  প্রত্যেকটি রিড

এক একটা এম নিয়ে আসে । 


এম মানে একটা ম্যাসিন

এম মানে একটা ম্যান 

পদব্রজে হেঁটে আসা

মিছিলের শেষে কোন অন্ত্যমিল ছাড়া  । 


যে কোন দল তাই মুক্ত

যে কোন দল তাই ফিরে আসে অক্ষরে

শূন্য একটি প্রস্তুতকাল মাত্র

হ্যাং পার্লামেন্ট । 

পায়ে পায়ে সিঁড়ি ভাঙ্গা এই ভালো

এই বেশ চলে যায় দিন 

বিষয় বস্তু নিয়ে হাহুতাস বহোত তো হলো 

ঘুরে ফিরে মিলিয়ে যাওয়া গেলো শূন্যতায়

দশমিকে আটকে গেলো  যে সব সংখ্যা   

এক্সটেন্ডেড টু দা লিমিট

বৃত্তের খন্ডতায় একটি চরৈবেতি

একটি ম্যাটার ব্যতিরেকে তো তারা  

আর কিছু নয় । 

 

তার বারবার এই  ঘর থেকে দূর  

বাড়ি ফিরে যাওয়া 

কোন এম হতে পারে না । 


Comments